হ্যান্ড পেইন্ট

কিভাবে কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করা যায়

আমাদের দেশে কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করাও বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যবসা ৷ শহর থেকে গ্রামে আজ বেশিরভাগ কাপড়ের দোকান গুলোতে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে কাঠের তৈরি নানা ধরনের ব্লক দিয়ে কিছু লোক শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজে সুন্দর সুন্দর নকশা তৈরি করছে ৷ এটি এমন একটি নকশা শিল্প যা পারিবারিক ভিত্তিতে সামান্য পুঁজির মাধ্যমেই ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করা যায়৷

ব্লক প্রিন্ট কি

এটি এমন এক ধরনের ছাপা কাপড় যাতে কাঠের উপর খোদাই করে বিভিন্ন নকশা আঁকা হয়৷ এই নকশা খোদাই করা কাঠকে ব্লক বলা হয়৷ আর ব্লক দিয়ে ছাপানোকে ব্লক প্রিন্ট বলে৷ এই ডিজাইনের একটা বৈশিষ্ট্য হলো একটি কাপড়ের সাথে আরেকটি কাপড়ের ডিজাইনের হুবহু মিল থাকে না৷ তাই নিজের ইচ্ছা মত ছোট বড় ব্লক বসিয়ে ডিজাইন তৈরি করে কাপড় ছাপানো যায়৷ আর যদি কাপড়ের রং অনুযায়ী মানানসই রং নির্বাচন করা যায় তাহলে নকশাও ভালোমত ফুটে ওঠে ও কাপড়টি দেখতে খুবই চমৎকার লাগে৷ এই ব্যবসাটি করা খুব সহজ ও এর চাহিদাও ব্যাপক৷

কি কি জিনিসে ব্লক প্রিন্ট করা যায়
শাড়ি, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, সেলোয়ার কামিজ, গেঞ্জি ইত্যাদি যেকোনো কাপড়েই ব্লক প্রিন্ট করা যায়৷ তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, যেহেতু এতে পাকা রং ব্যবহার করতে হয় তাই বৃষ্টির দিনগুলোতে সুতি বা সিল্কের বাটিক কাপড় কম পরাই ভালো৷ কারণ এতে রং ছড়িয়ে যেতে পারে৷

ব্লক প্রিন্ট করার জন্য কি কি উপকরণ লাগবে ও সেগুলো কোথায় পাওয়া যাবে

কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করতে সাধারণত দুই ধরনের জিনিস লাগে৷ যেমন-
১. সবসময়ের জন্য দরকারি জিনিস
২. তাৎক্ষণিকভাবে দরকারি জিনিস

সবসময়ের জন্য দরকারি জিনিসঃ এই নকশা করতে কিছু স্থায়ী জিনিস দরকার যেগুলো কিনতে প্রথমে খরচ একটু বেশি হতে পারে৷ কিন্তু যেহেতু এসব জিনিস সবসময় লাগবে তাই একবারেই কেনা ভালো৷ আসুন জেনে নেই ব্লক করতে কি কি স্থায়ী জিনিস লাগবে:
জিনিসগুলোর নাম কোথায় পাওয়া যাবে আানুমানিক দাম (১ টারটাকায়)
১. কাঠের টেবিল নিজেকে বানিয়ে নিতে হবে ২০০০
২. স্ট্যান্ড নিজেকে বানিয়ে নিতে হবে ২০০
৩. রঙের ট্রে নিজেকে বানিয়ে নিতে হবে ১০০
৪. কাঠের ব্লক জেলা সদরে অবস্থিত কাঠের দোকানগুলোতে বা কাঠমিস্ত্রির কাছে ২০
৫. ১/৪ ইঞ্চি মোটা ফোম ফোমের দোকানগুলোতে ৫০
৬. চট হার্ডওয়ারের দোকানগুলোতে ৩০
৭. পুরানো কম্বল পুরানো গরম/শীতের কাপড়ের দোকানে ৫০
৮. ব্রাশ হার্ডওয়ারের দোকানগুলোতে ১৫
ঌ. মোটা মার্কিন কাপড় কাপড়ের দোকানগুলোতে ৪০
১০. প্লাষ্টিকের বাটি, চা চামচ, টেবিল চামচ হাঁড়ি-পাতিলের দোকানগুলোতে ৪০

তাৎক্ষণিকভাবে দরকারি জিনিসঃ ব্লক প্রিন্ট করার সময় যেসব কাঁচামাল (সবগুলো নাও লাগতে পারে) যোগাড় করা বেশ জরুরি তাদের নাম ও প্রাপ্যতার স্থান নিচে দেওয়া হলোঃ

জিনিসগুলোর নাম কোথায় পাওয়া যাবে আনুমানিক দাম (১ টার-টাকায়)
১. কাপড় কাপড়ের দোকানে প্রয়োজনমত
২. পানি পুকুর বা টিউবওয়েল
৩. গুড়ো সাবান যেকোনো মুদি দোকানে ২০
৪. সিলিকেট যেকোনো মুদি দোকানে ৪০
৫. কাপড় কাচারসোডা যেকোনো মুদি দোকানে ১৫
৬. পার অক্সাইড জেলা সদরে অবস্থিত কেমিক্যালসের দোকানগুলোতে ৩৫
৭. হাক্ফল ঐ ২০
৮. এসিটিক এসিড ঐ ৪০
ঌ. টিটেনিয়াম ঐ ৫০
১০. বাইন্ডার ঐ ২৪
১১. হোয়াইট পেষ্ট ঐ ৪৮
১২. এন.কে. ঐ ৩০
১৩. আফছান ঐ ১০
১৪. অকজেল ঐ ২৫
১৫. ম্যাটালিক বাইন্ডার ঐ ৫০
১৬. র্যাপিডবাএকরামিনরং ঐ ২০
১৭. ম্যাটপেস্ট ঐ ৩০

ব্লক প্রিন্ট করার আগে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে
কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করার জন্য আগে কতগুলো কাজ করতে হবে৷ যেমনঃ

১. টেবিল তৈরি করাঃ ব্লক প্রিন্টের জন্য প্রথমে একটি টেবিল তৈরি অথবা সংগ্রহ করতে হবে যার উপরের অংশ সমান ও মসৃণ থাকবে৷ টেবিলের উপরিভাগ সমান করতে যা যা বিছানো দরকার তা হলো –
• প্রথমে টেবিলে চট বিছাতে হবে;
• এরপর চটের উপর একটি মোটা পশমী কম্বল বা মোটা কাঁথা বিছাতে হবে;
• আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যবসার শুরুতে একটি সমান টেবিল নিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে৷ তবে এজন্য টেবিলে যা যা বিছানো দরকার তা মাটিতেও বিছাতে হবে৷

২. রঙের ট্রে তৈরি করাঃ এরপর একটি রঙের ট্রে তৈরি করতে হবে৷ তবে ব্যবসার শুরুতে রঙের ট্রের পরিবর্তে একটি কাঠের উপরে ফোম দিয়েও রঙের ট্রে তৈরি করে নেয়া যেতে পারে৷ এজন্য যা যা লাগবে তা হলো –

• প্রথমে একটি চারকোণা কাঠের ফ্রেম তৈরি করতে হবে;
• এরপর ফ্রেমটির তলায় রেক্সিন বা কাঠ লাগাতে হবে;
• এই কাঠ বা রেক্সিনের তলার উপরে এক টুকরা ফোম বসিয়ে দিতে হবে৷ মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক রঙের জন্য আলাদা ফোম দরকার হবে আর প্রতিবার রং গোলানোর আগে ও পরে রঙের ট্রে ধুয়ে নিতে হবে।

৩. রং তৈরি করাঃ ব্লক প্রিন্টে রং করার কাজটি ধাপে ধাপে ও সময় নিয়েই করা ভালো৷ বাজারে নানা রকম রং কিনতে পাওয়া যায় যা আমরা নিজেও তৈরি করতে পারি৷ নিজেরা রং তৈরি করতে চাইলে নীল, হলুদ, লাল, বেগুনী ও কালো- এই ৫টি রং কিনে নিচের নিয়ম অনুয়ায়ী নতুন রং তৈরি করতে হবেঃ

কোন কোন রং মেশাতে হবে নতুন কোন রং পাওয়া যাবে

হলুদ + লাল + নীল মেরুন
কালো + সাদা ছাই
নীল + লাল বেগুনী
কমলা + নীল চকলেট
লাল + হলুদ বেশি বাদামী
লাল + বেগুনী লালচে বেগুনী
কালো + সবুজ গাঢ় সবুজ
হলুদ ২ গুণ + লাল ১ গুণ কমলা

৪. কাপড় প্রস্তুত করাঃ ব্লক প্রিন্ট করার জন্য তিনটি ধাপে কাপড়টি তৈরি করে নিতে হবে৷ যেমন:
কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করার আগে প্রথমে কাপড় ধোলাই করে মাড় ছাড়িয়ে নিতে হবে৷ কাপড় থেকে মাড় ছাড়িয়ে নিলে সুতায় সহজে রং ধরে৷ তবে ধোলাই না করেও কাপড়ে ব্লক করা যায়। মনে রাখতে হবে, মার্কিন কাপড়ে ব্লক করার আগে অবশ্যই বিশেষ পদ্ধতিতে কিছু কাচাঁমালের মাধ্যমে কাপড় সাদা করে নিতে হবে৷ এজন্য যা যা লাগবে তা হলঃ

কাঁচামালের নাম কাঁচামালের পরিমাণ
কাপড় ১ মিটার
পানি ৩ লিটার
গুঁড়ো সাবান ১গ্রাম
সিলিকেট ৬ গ্রাম
কস্টিক সোডা ২গ্রাম
কাপড় কাচার সোডা ৬ গ্রাম
পারঅক্সাইড ১২ গ্রাম
হাক্ফল ৩ গ্রাম

এখন কিভাবে কাপড় সাদা করতে হবে তার নিয়মগুলো জানা যাক-
• প্রথমে ৩ লিটার গরম পানি নিতে হবে৷ তাতে দেড় গ্রাম গুঁড়ো সাবান, ৬ গ্রাম সিলিকেট, আড়াই গ্রাম কস্টিক সোডা ও ৬ গ্রাম কাপড় কাচার সোডা মেশাতে হবে।

• ৫ মিনিট পর তাতে ১২ গ্রাম পার-অক্সাইড মিশিয়ে ঐ মিশ্রণে কাপড় ভিজিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটাতে হবে।

• এরপর কাপড়টি ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে শুকাতে হবে।
• কাপড় ধবধবে সাদা করতে চাইলে আবার ৩ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হাক্ফল গুলিয়ে নিতে হবে এবং তাতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট কাপড় ভিজিয়ে রাখতে হবে।
• তারপর কাপড়টি চিপে শুকিয়ে নিতে হবে যাতে পানি আর না থাকে।

একটি সিল্কের কাপড় ধোলাই করতে যা যা লাগবে তা হলোঃ
কাঁচামালের নাম কাঁচামালের পরিমাণ
পানি ৪ লিটার
কাপড় কাচার গুঁড়ো সাবান ১ টেবিল চামচ
কাপড় কাচার সোডা ৬০ গ্রাম
এসিটিক এসিড ১ চা চামচ

এখন কিভাবে কাপড় ধোলাই করতে হবে তার নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলঃ
• প্রথমে সিল্ক কাপড়টি ৩০ মিনিট ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে৷ এরপর কাপড়টি কয়েকবার উঠানামা করাতে হবে।
• একটি হাঁড়িতে ৪ লিটার ফুটন্ত পানি নিয়ে তার মধ্যে ৬০ গ্রাম কাপড় কাচার সোডা ও ১ টেবিল চামচ গুঁড়ো সাবানের কুচি দিতে হবে।
• সাবানের কুচি গলে গেলে কাপড়টিকে ঐ পানিতে ৩০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে৷ এরপর দুইবার কাপড়টি প্রথমে গরম ও তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

• একটি বালতিতে ৪ লিটার ঠান্ডা পানি নিয়ে তাতে ১ চা চামচ পরিমাণ এসিটিক এসিড মেশাতে হবে।
• সিল্ক কাপড়টিকে ঐ পানিতে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে৷ এরপর রোদে শুকিয়ে নিলেই কাজ শেষ৷ তবে মনে রাখতে হবে, সিল্ক কাপড় ধোলাই না করেও ব্লক করা যায়।

ব্লক প্রিন্ট কিভাবে করতে হবে

ক) নানাভাবে একটা কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করা যায়৷ যেকোন একটা কাপড়ে কিভাবে ব্লক প্রিন্ট করতে হবে তার নিয়মগুলো জানা যাকঃ
• একটি প্রয়োজনমত উঁচু কাঠের স্ট্যান্ড বা টুল নিয়ে তার উপর ১২ ইঞ্চি লম্বা ও ১২ ইঞ্চি চওড়া একটি রঙের ট্রে রাখতে হবে।
• ট্রের ভিতর ১০ ইঞ্চি লম্বা, ১০ ইঞ্চি চওড়া ও ইঞ্চি পুরু একটি ফোম নিয়ে ফোমটি রঙের ট্রের উপর রাখতে হবে।
• এবার একটি পাত্রে উপরের সব কেমিক্যাল এক সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেই৷ সেইসাথে কাপড়ের সাথে মানাবে এমন রং মেশাই
• এবার ব্রাশের সাহায্যে ট্রের ফোমের মধ্যে রং মাখাই৷ তারপর টেবিলের উপর কাপড় টান টান করে বিছাতে হবে।
• এখন কাঠের ব্লকটিতে ট্রের ফোম থেকে ভালোভাবে রং লাগিয়ে ব্লকটি দিয়ে কাপড়ে জোরে চাপ দিলেই কাপড়ে বাটিক প্রিন্ট হয়ে যাবে।
• এরপর কাপড়টি আধা ঘন্টা মেলে রাখতে হবে৷ তারপর ইস্ত্রি করে ভাঁজ করতে হবে।

খ) কাপড়ে গাঢ় বা হালকা দুই ভাবেই প্রিন্ট করা যায়৷ তবে গাঢ় রঙের কাপড়ে হালকা রঙের প্রিন্ট করলে ভালো দেখাবে আর হালকা রঙের কাপড়ে গাঢ় রঙের প্রিন্ট করলে ভালো দেখাবে৷ এখন কিভাবে গাঢ় রঙের কাপড়ে হালকা ব্লক প্রিন্ট করতে হবে তার নিয়মগুলো জেনে নেইঃ
• প্রথমে উপরের সব কেমিক্যাল একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।
• এবার ব্লকের সাহায্যে যেকোনো গাঢ় রঙের কাপড়ে হালকা রঙের প্রিন্ট করা যাক৷ আধা ঘন্টা পর কাপড়টি ইস্ত্রি করে ভাঁজ করে ফেলতে হবে।

গ) কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করার জন্য নকশার দরকার হতে পারে৷ এখানে বেশ কিছু নকশা দেয়া আছে যেগুলো দিয়ে ব্লক তৈরি করা যেতে পারে৷ আবার নিজে নিজেও নকশা এঁকে ব্লক তৈরি করা যেতে পারে।
ঘ) কাপড়ে সোনালী বা রূপালী আফছান দিয়েও প্রিন্ট করা যায়৷ আফছান দিয়ে প্রিন্ট করলে প্রিন্টটা চকচকে দেখা যায়৷ এখন কিভাবে কাপড়ে আফসান প্রিন্ট করতে হবে তার নিয়মগুলো চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
• প্রথমে উপরের সব কেমিক্যালগুলো একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।
• এবার ব্লকের সাহায্যে যেকোনো কাপড়ে ছাপ দিলেই কাপড়ে আফছান প্রিন্ট হয়ে যাবে।

ব্লক প্রিন্ট করার সময় কিভাবে সাবধান থাকতে হবে
বাটিকের মত এক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সাবধান থাকা দরকার৷ যেমনঃ
• প্রিন্ট করার সময় যেহেতু নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় তাই চোখ দুটোকে নিরাপদ রাখতে হবে।
• ন্যাপথল পদ্ধতিতে রং করার সময় হাতে দস্তানা পরে নেয়া ভালো।
• শাড়িতে প্রিন্ট করার সময় কেমিক্যালগুলো খুব সাবধানে চামচ দিয়ে মেশাতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে যেন শরীরের কোথাও তা না লাগে৷ কারণ শরীরের কোথাও তা লাগলে চামড়া পুড়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি

টেক টাইমস বিডি

টেক টাইমস বিডি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতেঃ এখানে ক্লিক করুন
টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেজের লিংক
টেক টাইমস বিডি ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতেঃ এখানে ক্লিক করুন এবং তথ্য প্রযুক্তির আপডেট ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে টেক টাইমস বিডি সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
তথ্য প্রযুক্তির আপডেট খবর পেতে ভিজিট করুন www.techtimesbd.com ওয়েবসাইট।

Back to top button
error: Content is protected !!