Featuredহেলথ

চুলকানির আটটি ঘরোয়া সমাধান

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ত্বকের সাধারণ সমস্যা অথবা সরল চর্মরোগ থেকে চুলকানির সূত্রপাত হয়েছে। আপনার চুলকানি অনুভূত হলে প্রথমে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

কিন্তু এটাও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ত্বকের চুলকানি কোনো মারাত্মক রোগেরও উপসর্গ হতে পারে, যেমন- কিডনির রোগ, লিভারের রোগ, সেলিয়াক রোগ ও লিম্ফোমা। তাই আপনার চুলকানি সাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসায় প্রশমিত না হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে যেন ভুল না হয়। এ প্রতিবেদনে চুলকানি উপশমের জন্য ৮ ঘরোয়া চিকিৎসা উল্লেখ করা হলো।

নারকেল তেল অথবা জলপাই তেলঃ চুলকানির সবচেয়ে সেরা ঘরোয়া চিকিৎসাটি হয়তো আপনার হাতের কাছেই রয়েছে। নারকেল তেল ও জলপাই তেল ত্বকের হাইড্রেশন বা আর্দ্রতার জন্য ভালো এবং ত্বকের ক্ষতি করে না, বলেন নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিলে অবস্থিত ডার্মাটোলজি অ্যান্ড লেজার সেন্টারের ত্বক বিশেষজ্ঞ ক্রিস জি. অ্যাডিগান। যেকোনো শুষ্ক ও চুলকানির স্থানে এসব তেল মাখতে পারেন।

ওটমিলের গুঁড়াঃ ওটমিলও ত্বকের চুলকানি উপশম করতে পারে। গোসলের পানিতে অল্প পরিমাণ কলোইডাল ওটস (খুব সূক্ষ্ম ওটস পাউডার) মেশান। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে অবস্থিত আর্ট অব স্কিনের কসমেটিক সার্জন ও ডার্মাটোলজিস্ট মেলানি পাম বলেন, ‘কলোইডাল ওটমিল মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের ওপর প্রদাহবিরোধী ও আরামদায়ক আস্তরণ পড়বে, ফলে চুলকানির মাত্রা কমে যাবে। রোদে পোড়া ত্বক বা চুলকানির চিকিৎসায় ভালো ফল পেতে কুসুম গরম পানিতে ওটমিল পাউডার যোগ করে গোসল করতে পারেন।’

ভেজিটেবল ফ্যাটঃ ভেজিটেবল ফ্যাট (শর্টেনিং) কেবলমাত্র কাপকেকের জন্য নয়, এটি চুলকানির চিকিৎসায়ও কাজে আসতে পারে। ডা. পাম বলেন, ‘চুলকানি উপশমে ভেজিটেবল ফ্যাটের ব্যবহার শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ভেজিটেবল ফ্যাট একটি চমৎকার ময়েশ্চারাইজার। অনেক চিকিৎসক একজিমাপ্রবণ ত্বকের জন্য এ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।’

পর্যাপ্ত পানি পানঃ চুলকানির চিকিৎসায় কেবলমাত্র শরীরের বাইরের দিক বা ত্বক নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবেন তা নয়, আপনার শরীরের ভেতরের দিকটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ডা. অ্যাডিগান বলেন, ‘প্রচুর পানি পান করে হাইড্রেটেড থেকে আপনার ত্বককেও হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে পারেন।’ ত্বক আর্দ্র থাকলে চুলকানির প্রবণতা কমে যাবে।

বেকিং সোডাঃ বেকিং সোডা মিশিয়ে গোসল করলে তা ত্বকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। মিনেসোটার রোজল্যান্ডে অবস্থিত তারিন ডার্মাটোলজির ত্বক বিশেষজ্ঞ মোহিবা তারিন বলেন, ‘ত্বকের চুলকানি কমাতে একটি কার্যকর উপায় হলো পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে গোসল করা। বেকিং সোডা ত্বকের পৃষ্ঠের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে প্রদাহ কমায়, পিএইচে ভারসাম্য আনে ও ত্বকের ওপরে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।’

ভিটামিন ডিঃ শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন দিনগুলোতে চুলকানির প্রবণতা বেড়ে যায়। এটা কিন্তু কালতালীয় ব্যাপার নয়। শরীরে ভিটামিন ডি কতটুকু রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ত্বকের চুলকানি বাড়তে পারে অথবা কমতে পারে। ডা. তারিন বলেন, ‘আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভিটামিন ডি কমে গেলে (সাধারণত শীতকালে) ত্বকের সমস্যা ও চুলকানি অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে পারে।’

ওমেগা ৩ঃ একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হলো ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকে চুলকানির তাড়না দমন করতে সহায়ক হতে পারে। ডা. তারিন চুলকানির সমস্যায় ভোগা লোকদের বেশি করে ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার খেতে উৎসাহিত করছেন, যেমন- অ্যাভোকাডো, বাদাম ও স্যালমন মাছ। পর্যাপ্ত ওমেগা ৩ খেলে আপনার ত্বকেও এ ফ্যাটের অনুপ্রবেশ ঘটবে, ফলে চুলকানি প্রশমিত হবে।

অ্যালোভেরাঃ আপনি সম্ভবত জানেন যে, পোড়া ত্বকের নিরাময়ে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকর। কিন্তু আপনি হয়তো এটা জানেন না যে, ত্বকের চুলকানি উপশমেও এ উদ্ভিদটি জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. অ্যাডিগান বলেন, ‘অ্যালোভেরা হলো একটি প্রদাহরোধী ওষুধ, একারণে ত্বকের অস্বস্তিকর চুলকানির জন্য এটি কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।’ অ্যালোভেরা থেকে তাজা জেল বের করে চুলকানির স্থানে প্রয়োগ করুন।

তথ্যসূত্র: দ্য হেলদি

টেক টাইমস বিডি

টেক টাইমস বিডি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন
টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেজের লিংক
টেক টাইমস বিডি ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন এবং তথ্য প্রযুক্তির আপডেট ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে টেক টাইমস বিডি সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
তথ্য প্রযুক্তির আপডেট খবর পেতে ভিজিট করুন www.techtimesbd.com ওয়েবসাইট।

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!