মাদারবোর্ড কি? মাদারবোর্ড এর বিভিন্ন অংশের নাম ও পরিচিতি

মাদারবোর্ড কি মাদারবোর্ড এর বিভিন্ন অংশের নাম ও পরিচিতি

মাদারবোর্ড কি বা মাদারবোর্ড পরিচিতি

কম্পিউটারের মাদারবোর্ড মূলত একটি সার্কিট বোর্ড। আর এটি এমন একটি সার্কিট বোর্ড যা প্রিন্টেড ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট যুক্ত সার্কিট বোর্ড। তবে আসল কথা হলো এটি কাজ করে কম্পিউটারের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি হিসেবে।

তাহলে কি মাদারবোর্ড আসলেই কম্পিউটারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে? সহজ ভাবে বলতে গেলে, একটি কম্পিউটার এ থাকে অসংখ্য ডিভাইস। যেমন সিপিইউ, র‍্যাম, হার্ডড্রাইভ ও বিভিন্ন হার্ডওয়ার। আর এসব ডিভাইস যুক্ত থাকে মাদারবোর্ড এর সাথে। তাই মাদারবোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে অন্যান্য সকল ডিভাইসেকে এবং সক্রিয় রাখে সম্পূর্ণ সিস্টেম।

সংজ্ঞাঃ কম্পিউটার এর যে ডিভাইসটির সাথে এর অন্যান্য সকল ডিভাইস যুক্ত হয়ে একটি পরিপূর্ণ কম্পিউটার তৈরী হয় তাকে মাদাবোর্ড বলে।

আপনি যদি একটি পিসির বডির ব্যাক সাইডে খেয়াল করেন তাহলে একটি সার্কিট বোর্ড দেখতে পাবেন। আর সেই সার্কিট বোর্ডটিই হলো মাদারবোর্ড।

মাদারবোর্ড সম্পর্কে বিস্তারিত

সর্বপ্রথম কম্পিউটার মাদারবোর্ড রিলিজ হয় ১৯৮১ সালে। সেই মাদারবোর্ড টি ছিল আই.বি.এম কোম্পানির পার্সোনাল কম্পিউটার মাদারবোর্ড। আর এটিকেই বিবেচনা করা হয় বিশ্বের প্রথম মাদারবোর্ড হিসেবে।

আর একটা মজার ব্যপার হচ্ছে সেই মাদারবোর্ড এর নাম ছিলো প্লানার। প্লানার এর পরে দিন দিন যুক্ত হয়েছে হয়েছে আরো অনেক নাম। যেমন এমবি, বেস বোর্ড, মোবো, মেইন বোর্ড, মেইন সার্কিট বোর্ড, এম-বোর্ড, সিস্টেম বোর্ড, প্ল্যানার বোর্ড, লজিক বোর্ড ইত্যাদি।

তাছাড়াও কম্পিউটারের সাইজ ও টাইপের উপর ভিত্তি করে রয়েছে আরও বিভিন্ন নামের মাদারবোর্ড তো রয়েছেই।

কম্পিউটার মাদারবোর্ড এর ছবি

মাদারবোর্ড কত প্রকার কি কি

কম্পিউটার মাদারবোর্ড সাধারণত পাঁচ প্রকার। আর এই প্রকার গুলো নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপরের। যেমন মার্কেট লেভেল, উৎপাদন, ব্যবহার আকার ও ক্ষমতা ইত্যাদি। দেখে নিন কম্পিউটার মাদারবোর্ড এর প্রকারভেদ।

স্ট্যান্ডার্ড এটিএক্স মাদারবোর্ড (Standard ATX)।
মাইক্রো এটিএক্স মাদারবোর্ড (Micro ATX)।
মিনি আইটিএক্স মাদারবোর্ড (Mini ITX)।
ন্যানো আইটিএক্স মাদারবোর্ড (Nano ITX)।
পিকো আইটিএক্স মাদারবোর্ড (Pico ITX)।

মাদারবোর্ড কোনটা ভালো

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে মাদারবোর্ড কোনটা ভালো । মূলত চারটি কোম্পানি বর্তমানে মাদারবোর্ড তৈরিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। যেহেতু এরা শীর্ষে অবস্থান আছে তাই এদের মাদারবোর্ড গুলো অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় অনেক ভাল। সবচেয়ে ভালো মাদারবোর্ড সমূহ হচ্ছেঃ

Asus
Gigabyte
MSI
ASRock

মাদারবোর্ডের বিভিন্ন অংশের নাম

মাদারবোর্ড সম্পর্কে ধারনা পেতে আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে মাদাবোর্ডের বিভিন্ন অংশের নাম। তাই প্রথমে আমরা জানবো মাদারবোর্ড কন্ট্রোলার এর নাম ও গঠন সম্পর্কে (যে কন্ট্রোলার এর সাথে বিভিন্ন ডিভাইস যুক্ত করা হয়)। তারপর জানবো মাদারবোর্ড কানেক্টর পোর্ট গুলো সম্পর্কে।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কন্ট্রোলার অংশের নাম ও কানেক্টর পোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত।

মাদারবোর্ড আইডিই কন্ট্রোলার

IDE এর পূর্ণরুপ হচ্ছে Integrated Drive Electronics। একটি IDE কন্ট্রোলার এ থাকে ৪০ টি পিন। এসব পিন কম্পিউটার এর অন্যান্য ডিভাইস সমূহ কে মাদারবোর্ড এর সাথে যুক্ত করে। যেমন হার্ডডিস্ক, সিডিরম ড্রাইভ, ডিভিডি ড্রাইভ ইত্যাদি। যেকোনো মাদারবোর্ডে থাকে দুইটি আইডিই কন্টোলার।

প্রাইমারি আইডি কন্টোলার
সেকেন্ডারি আইডি কন্টোলার

মাদারবোর্ডের বিভিন্ন পোর্ট

একটি কম্পিউটার মাদারবোর্ড এর দিকে তাকালেই আপনার চোখে পরবে বিভিন্ন পোর্ট ও কানেক্টর। এগুলো মাদারবোর্ড এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ কারন এগুলোতেই যুক্ত থাকে কম্পিউটার এর র‍্যাম, হার্ডডিস্ক, গ্রাফিক্স, মেমরি ইত্যাদি সহ সকল ডিভাইস।

সিরিয়াল পোর্ট (Serial Port)

সাধারণত প্রতিটি মাদারবোর্ডে দেখা যায় দুটি সিরিয়াল পোর্ট।
প্রতিটি সিরিয়াল পোর্টে থাকে ৯ টি অথবা ১০ টি পিন।
সিরিয়াল পোর্ট মূলত দুই প্রকার। একটি মেইল এবং অপরটি ফিমেইল।
‍সিরিয়াল পোর্ট এর মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয় মাউস এবং মডেম।

প্যারালাল পোর্ট (Paralal Port)

প্যারালাল পোর্ট এর অপর নাম হচ্ছে লাইন প্রিন্টার পোর্ট। এই পৌর্টে সাধারনত সংযোগ দেওয়া হয় প্রিন্টার। এজন্যই এ ধরনের পোর্টকে বলা হয় প্যারালাল

এ ধরনের পোর্ট এর পিন সংখ্যা হচ্ছে ২৬ টি। কিছুদিন আগেও এ ধরনের পোর্ট গুলো প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি সংযোগে বেশি ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানের সকল প্রিন্টারে রয়েছে ইউএসবি অপশন। তাই এখন আর মাদারবোর্ড এর প্যারালাল পোর্ট আগের মতো ব্যবহৃত হয় না।

মাদারবোর্ডের PS2 পোর্ট

মাদারবোর্ড এর PS2 পোর্ট টি ব্যবহৃত হয় এক ধরনের মাউস এবং কিবোর্ড সংযোগ এর কাজে। আপনি যদি মাদারবোর্ড এর উপরের অংশে খেয়াল করেন তাহলে এই পোর্ট দেখতে পাবেন। এর কানেক্টর দেখতে অনেকটা গোল আকৃতির হয়ে থাকে।

নরমাল ইউএসবি মাউস-কিবোর্ড এর থেকে PS2 পোর্টের মাউস-কিবোর্ড আলাদা। কারন এ গুলোতে কাজ করে অনেক বেশি ফ্যাসিলিটি ফংশন। তবে আধুনিক সময়ে এসব মাউস-কিবোর্ড ব্যবহার হয় না বললেই চলে। এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে নরমাল ইউএসবি মাউস-কিবোর্ড।

PS2 কীবোর্ড কানেক্টর পোর্ট

একটি মাদাবোর্ডের সাথে PS2 কীবোর্ড সংযোগ দেওয়ার জন্য যে পোর্ট ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে PS2 কীবোর্ড কানেক্টর পোর্ট। আপনি যদি মাদারবোর্ডের উপরে বাম দিকের কোনায় লক্ষ্য করেন তাহলে এই পোর্ট দেখতে পাবেন। সাধারণত এই পো রঙ হয়ে থাকে বেগুনি।

PS2 মাউস কানেক্টর পোর্ট

একটি মাদাবোর্ডের সাথে PS2 মাউস সংযোগ দেওয়ার জন্য যে পোর্ট ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে PS2 মাউস কানেক্টর পোর্ট। আপনি যদি মাদারবোর্ডের উপরে বাম দিকের কোনায় কীবোর্ড কানেক্টররের পারে লক্ষ্য করেন, তাহলে এই দেখতে পাবেন। সাধারণত এই পো রঙ হয়ে থাকে সবুজ।

ইন্টারনেট ল্যান্ড কানেক্টর পোর্ট

আপনি যদি কম্পিউটারে সরাসরি হাই স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে ল্যান্ড পোর্টের। সাধারণত এই পোর্টটি দেখতে চার কোনাটে হয়। তাছাড়া এ ধরনের পোর্টে থাকে দুইটি এলইডি লাইট। যে লাইট দুটি নিশ্চিত করে ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা।

মনিটর ভিডিএ কানেক্টর পোর্ট

প্রায় সকল মাদাবোর্ডেই থাকে ডিসপ্লে সংযোগের জন্য একটি ভিজিএ পোর্ট। এই ভিজিএ পোর্ট এর সাথে লাগানো থাকে মনিটর৷ মনিটর লাগানোর এই পোর্টকে বলে ভিডিএ কানেক্টর পোর্ট।

ডিসপ্লে সম্পর্কে আমাদের সবারই কম বেশি ধারনা রয়েছে। আপনি চাইলে এই ডিসপ্লে সংযোগে ব্যবহার করতে পারেন অতিরিক্ত ভিজিএ কার্ড। কিন্তু তার জন্য আপনার দরকার হবে একটি পিসিআই স্লট।

মাইক্রোফোন কানেক্টর পোর্ট

আপনি যদি চান আপনার কম্পিউটারে অডিও রেকর্ডিং বা সরাসরি কথা বলার সুবিধা তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে মাইক্রোফোন কানেক্টর পোর্ট৷ সাধারণত এই পোর্টের রং হয়ে থাকে গোলাপি। মাইক্রোফোন কানেক্টর পোর্টে আপনি পাবেন মাক্রোফোন ব্যবহারের সুবিধা।

আডিও সাউন্ড কানেক্টর পোর্ট

অডিও শোনার জন্য আমরা যে পোর্টে সাউন্ডবক্স লাগাই সেটিই আডিও সাউন্ড কানেক্টর পোর্ট। এই পোর্টটি অবস্থান করে মাইক্রোফোন কানেক্টর পোর্ট এর ঠিক পাশে। তাছাড়া এই পোর্টটির রঙ হয়ে থাকে সবুজ। ব্যবহার এর সুবিধার্থে পোর্টগুলোকে দেওয়া হয় পিসির সামনে-পেছনে উভয় পাশেই।

ইউএসবি 3.0 কানেক্টর পোর্ট

তুলনামূলক দ্রুত ডাটা স্থানান্তরের উদ্দ্যেশ্যে মাদারবোর্ডে একটি পোর্ট ব্যবহৃত হয়, সেই পোর্ট টিই হচ্ছে ইউএসবি 3.0 কানেক্টর পোর্ট। এটি ইউএসবি পোর্ট এর লেটেস্ট ভার্সন।

একসময় পিসির সাথে যেকোনো ডিভাইস সংযোগ করতে সেই ডিভাইস এর এপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হতো। এমনকি স্ক্যানার, প্রিন্টার, মাউস, কীবোর্ড, প্রেনড্রাইভ ইত্যাদি সংযোগ করতেও এপ্স ইন্সটল এর ঝামেলা পোয়াতে হতো। সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে ইউএসবি 3.0 কানেক্টর পোর্ট। এই পোর্টে ডিভাইসগুলো সংযোগ দিলে ইনস্ট্রল করার মত ঝামেলা পোহাতে হয়না। তাছাড়া একই পোর্টে মাল্টিপল হার্ডডিস্ক যুক্ত করার সুবিধা তো রয়েছেই।

মাদারবোর্ডে সাধারণত কি কি থাকে

ইনডাক্টর।
হিট সিংক।
ক্যাপাসিটর।
নর্থব্রিজ।
সাউথব্রিজ।
স্ক্রু হোল।
সিপিইউ সকেট।
ইউএসবি হেডার।
রেইড।
এফডব্লিউএইচ।
সিডি-ইন।
জাম্পারস্।
মেমোরি স্লট।
ব্যাক পেন কানেক্টর।
ফ্লপি কানেকশন।
ফোর পিন পাওয়ার কানেক্টর।
থ্রি পিন কেস পেন কানেক্টর
সিস্টেম প্যানেল কানেক্টর
২৪ পিন এটিএক্স পাওয়ার সাপ্লাই কানেক্টর
এটিএ/ আইডিই ডিস্ক ড্রাইভ প্রাইমারি কানেকশন
এক্সপেনশন স্লটস্ (পিসিআই এক্সপ্রেস, এজিপি)
সিরিয়াল পোর্ট কানেক্টর, ইত্যাদি।

গ্রাফিক্স কার্ড কি ও কীভাবে কাজ করে

হার্ডডিস্ক ভালো রাখার ৭ টি উপায়

টেক টাইমস বিডি এর ফেসবুক পেজের লিংক

 

 

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট