সর্বশেষঃ

মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে একজন সফল উদ্যোক্তা সাথী

মাহাবুবা সিদ্দীকা সাথী, ময়মনসিংহের মেয়ে। শিক্ষক বাবা ও শিক্ষিকা মায়ের আদরের সন্তান সাথী, সবাই যখন ভালো চাকরি করে জীবন যাপন করার স্বপ্ন দেখে , সেখানে মাহাবুবা সিদ্দীকা সাথী স্বপ্ন দেখেন একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। টেক টাইমস বিডি ডটকমে বলেছেন তার উদ্যোগের গল্প।

 

টেক টাইমস বিডি : কেমন আছেন?
উদ্যোক্তা সাথীঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

টেক টাইমস বিডি : আপনার পড়ালেখা ও কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে চাই?
উদ্যোক্তা সাথীঃ আমি আনন্দমোহন কলেজের ইংরেজি ডিপার্টমেন্টে ৩য় বর্ষে আছি। MATS(Medical Assistant complete) আমার ছোট একটা চেম্বার ছিল ধোবাউড়ায়। ইংরেজি সাবজেক্ট টা কঠিন হওয়ায় আপাদত অফ।পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইনে বিজনেস করছি। আলহামদুলিল্লাহ এটাই জীবন বদলে দিয়েছে।

টেক টাইমস বিডি : ব্যবসা শুরুর গল্পটা জানতে চাই।
উদ্যোক্তা সাথীঃ প্রথমেই বলব যে খুব বেশিই যুদ্ধ করতে হয়েছে আমাকে। করোনার সময় ২০২০ আগষ্ট মাস তখন আমার মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট এর ইন্টার্নী চলে নেত্রকোনা মেডিকেলে। আর পাশাপাশি অনার্স ১ম বর্ষ। বাবার জব ও শেষ হয়ে গিয়েছিল জুন মাসে। মায়ের একা জব এর উপর পরিবারের সবাই নির্ভর।ভালো লাগতো না বাসা থেকে টাকা চেয়ে নেওয়া। সিদ্ধান্ত নিলাম নিজে কিছু করবো। আগে টিউশনি করাতাম করোনায় তাও অফ।তখন অনলাইন বিজনেস করার কথা মাথায় আসলো কিন্তু কি নিয়ে করবো? কেউ সাপোর্ট করবে কি না ভয়ে ছিলাম। মা কে বললাম যে আমি বিজনেস করবো কিন্তু পাত্তা দিলো না। প্রথম এ অল্প কিছু কাঠের জুয়েলারি নিয়ে কাজ শুরু করি। বিজনেসের শুরু ছিল মাত্র ৯০০ টাকা, সেটাও আমার ছোট বোনদের টিফিনের জমানো টাকা। ছোট বোনের জমানো সেই টিফিনের টাকা নিয়েই শুরু আমার উদ্দ্যোক্তা জীবন । অনেকেই অনেক আজে-বাজে কথা বলতো যে পড়ালেখা ছেড়ে এখন ব্যবসায় নেমেছো? এতে করে আমার পরিবার আরো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। মা কে সবাই বলতো মেয়ে কে ব্যবসায় নামিয়ে দিলেন? মা হাসি মুখে বলতো আমার মেয়ে পারবে আমি জানি। বাহিরে বের হতে পারতাম না মানুষের প্রশ্নের জন্য। মনে আছে বাসায় এসেও একদিন কথা শুনিয়ে গিয়েছিল, কান্না করেছিলাম অনেক সময়। মা এটাই বললো যে পরের কথায় কান না দেওয়াই ভালো। ২০২০ সালের আগস্ট মাস চলছে তখনও বুঝতাম না ফেসবুক পেইজ কি? কিভাবে খুলতে হয়? ইউটিউব দেখে দেখে ফেসবুক পেইজ খোলার প্রথমেই মাথায় আসলো পেজের নাম কি দিবো। এক ফ্রেন্ড বললো চন্দ্রাতাপ দিতে পারো ।ফ্রেন্ডের কথায় চন্দ্রাতাপ নাম দিয়ে একটি ফেসবুক পেইজ খুলে ফেললাম। সবাই অনেক হাসাহাসি ও রং-তামাশা করতো আমার বিজনেস নিয়ে। এরপরে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে আমার ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার পরেই আমাকে এক জায়গায় ডাকা হয়। গ্রাম সাইড প্লাস করোনার কারনে এমবিবিএস তেমন যেতো না। তো আমিই মা ও শিশু বিভাগটা দেখতাম । ওই খানের বড় স্যার যারা ছিলেন তারাও আমাকে সব কিছু সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতো এবং আমার কাজে সবাই খুশি ছিলো, এদিকে আমার মনে হচ্ছিলো আমি বন্দি জীবনে আছি। আমার বিজনেস টা আমি চেম্বার এ বসেই করতে লাগলাম। কিন্তু মনের ভিতর শান্তি পাচ্ছিলাম না।সেপ্টেম্বর মাসে আমি কিছু না বলেই ময়মনসিংহ চলে আসি সব কিছু ছেড়ে। ময়মনসিংহ  এসে একটা মেসে উঠি এরপর পুরোদমে বিজনেস শুরু করি।পরিবার, আত্মীয় স্বজন সবাই রাগ করেছিলো কেন এমন করলাম।বিজনেসে কী হবে? আমি জানিনা কি হবে মনে হচ্ছিল ভালো কিছু হবে। সবার সব কথা সহ্য করে আবার শুরু হলো, এরপর নতুন প্রোডাক্ট নিলাম ন্যাচারাল চুল পড়া কমার হেয়ার অয়েল, হেয়ার প্যাক,খাদি পাঞ্জাবি, শাড়ী,জুয়েলারি। আলহামদুলিল্লাহ অল্প অল্প রেসপন্স বাড়তে লাগলো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধোবাউড়ায় আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন লিখা হল। আমাকে মোটামুটি তখন অনেকেই চিনে নিলো। ধোবাউড়ার প্রথম তরুণী উদ্যোক্তা আমি। এটা যেন আমার উদ্যোক্তা জীবনের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিলো । আমি এতো খুশি হয়েছিলাম যা বলে বোঝানোর  ভাষা নেই। আলহামদুলিল্লাহ যে বিজনেস আমাকে আমার নিজস্ব পরিচয় করে দিয়েছে। আমার গ্রুপটা একটা বিশ্বাসযোগ্য গ্রুপ হয়েছে সবার কাছে।

টেক টাইমস বিডি : কী কী পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?
উদ্যোক্তা সাথীঃ ন্যাচারাল চুল পড়া কমার হেয়ার অয়েল, সিক্রেট হেয়ার প্যাক,জুয়েলারি এন্টিক প্লাস কাঠের,খাদি পাঞ্জাবি, শাড়ী,রসুনের আচার,আমের আচার,হেন্ডপেইন্ট মাক্স।

টেক টাইমস বিডি : হেয়ার অয়েল নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা কেন ছিল?
উদ্যোক্তা সাথীঃ আমি সব সময় চেয়েছিলাম যে এমন কিছু নিয়ে কাজ করবো যা মানুষের উপকারে আসবে আর ছেলে মেয়ে সবাই ব্যবহার করতে পারবে।আর একটা কথা মাথায় এসেছিল যে উৎপাদন যদি নিজে করতে পারি তাহলে ভালো প্রফিট আশা করা যাবে।আর নিজের হাতের তৈরি হওয়ায় বিশ্বাস বাড়বে।

টেক টাইমস বিডি : ব্যবসার শুরুটা কী অনলাইনকেন্দ্রিক না কী অন্যকোন উপায়ে ছিল?
উদ্যোক্তা সাথীঃ অনলাইনের মাধ্যমেই শুরু

টেক টাইমস বিডি : আপনার ব্যবসার সফলতার কথা জানতে চাই।
উদ্যোক্তা সাথীঃ আলহামদুলিল্লাহ। আমার ব্যবসা হওয়ার পর থেকে আমাকে আর বাসা থেকে নিজের খরচের টাকা আনতে হয়নি। বরং টুকটাক সবাইকে উপহার দিতে পারি।নিজের প্রাইভেট এর বেতন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব নিজেই করি। একটা ডিপিএস ও করেছি আলহামদুলিল্লাহ।।বিজনেস এর মাধ্যমে সফলতা তো হয়েছে নিজের পরিচিতও বেড়েছে।

টেক টাইমস বিডি : উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে কাদের ভূমিকা বেশি ছিল?
উদ্যোক্তা সাথীঃ পরিবার বিশেষ করে মা, যে আমার আইডল। একজন প্রাইমারি হেডটিচার। যাকে অনেক সময় অনেক কথা শুনতে হয়েছে আমার বিজনেস নিয়ে। কিন্তু দিন শেষে সেই আমাকে সাহস দিয়েছে। তারপর আমার বাবা। সেও শিক্ষক ছিলো, বাবা আমার অর্ডারের দূরের প্রোডাক্ট গুলো ডেলিভারিও দিয়েছে অনেক। তাদের জন্যই বিজনেস চালিয়ে যেতে পারছি আলহামদুলিল্লাহ।

টেক টাইমস বিডি : ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা কী?
উদ্যোক্তা সাথীঃ আস্তে আস্তে করে আমার চন্দ্রাতাপ ৮ হাজার মেম্বার পার করেছে। আল্লাহর রহমতে আশা রাখছি একদিন সারা বাংলাদেশের মানুষ চন্দ্রাতাপ কে চিনবে জানবে ও বিশ্বাস যোগ্য হবে। চন্দ্রাতাপকে নিয়ে বড় কিছুই আশা করি বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

টেক টাইমস বিডি : উদ্যোক্তা জীবনের শুরু কতদিন ধরে এবং রেভিনিউ কেমন?
উদ্যোক্তা সাথীঃ দুই বছর পার হয়ে ৩ বছরে চলছে। আলহামদুলিল্লাহ রেভিনিউ অনেক ভালো। আল্লাহর কাছে আশা করছি আরো ভালো হবে।

টেক টাইমস বিডি : কাজ করতে গিয়ে কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন?
উদ্যোক্তা সাথীঃ অনেক হয়েছি। মন খারাপ তো অনেক হতো কিন্তু হতাশ হয়নি।একটা সুন্দর দিনের আশায় এগিয়ে যাচ্ছি যে দিন আমাকে সবাই চিনবে আর হাজারো বেকার মেয়ে নিজে কিছু করার কথা ভাববে।

টেক টাইমস বিডি : ধন্যবাদ আপনাকে।
উদ্যোক্তা সাথীঃ আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমার কথাগুলো বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি টেক টাইমস বিডি কর্তৃপক্ষকে। আশা করি আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন ও নারী উদ্যোক্তাদের কথা তুলে ধরবেন দেশের মানুষের কাছে।

টেক টাইমস বিডি

টেক টাইমস বিডি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন
টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ টেক টাইমস বিডি ফেসবুক পেজের লিংক
টেক টাইমস বিডি ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন এবং তথ্য প্রযুক্তির আপডেট ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে টেক টাইমস বিডি সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
তথ্য প্রযুক্তির আপডেট খবর পেতে ভিজিট করুন www.techtimesbd.com ওয়েবসাইট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!