সর্বশেষঃ
Featuredটিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

হার্ডডিস্ক ভালো রাখার ৭ টি উপায়

হার্ডডিস্ক হচ্ছে যেকোন কম্পিউটারের প্রধান স্টোরেজ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন একটা অংশ। হার্ডডিস্ক এর সুরক্ষা নিশ্চিতে আমাদের নানা পদক্ষেপ নিতে হয়। আজকে আমরা জানবো কিভাবে হার্ডডিস্ক ভালো রাখা যায়।

তবে এর আগে আমরা জেনে নিবো আসলে কি কারনে আমাদের হার্ডডিস্ক নষ্ট হয় কিংবা ক্র্যাশ হয়। হার্ডডিস্ক এর যে একটা এভারেজ লাইফটাইম আছে, সেটা যখন পার হয়ে যায় তখন হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করাটা খুব বেশী অবাক হওয়ার মত ব্যাপার না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় আরো আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে যায়

হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়ার কারন গুলো নিম্নোক্তঃ

১. হার্ডডিস্ক চালু অবস্থায় অর্থাৎ যদি কোন ফাইল ট্রান্সফার হওয়া অবস্থায় পিসি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটা হার্ডডিস্কে অনেক বাজে একটা প্রভাব ফেলে, এটা একটা বড় কারন

২. হার্ডডিস্ক সম্পুর্ন ভাবে ফাইল দিয়ে পরিপুর্ন থাকলে

৩. ওভারহীটের কারনে ক্র্যাশ করতে পারে

৪. অতিরিক্ত ধুলাবালি জমার কারনে ও স্পিনিং ডিস্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে

৫. হার্ডডিস্ক এর মধ্যকার কোন হার্ডওয়ার এরর

৬. ওয়াটার ডেমেজ বা ড্রাইভে পানি পড়লে এটার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে

৭. পাওয়ার যদি স্টেবল না হয়, সেটা আপনার হার্ডডিস্কের অনেক ক্ষতি করে

এবার কিছু টিপস জানবো যা জানা থাকলে আপনি আপনার হার্ডডিস্কটি সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

হার্ডডিস্ক ভালো রাখার ৭ টি উপায়

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট

আমরা অনেকেই একবার উইন্ডোজ ইনস্টল করার পরে সেটাই বছরের পর বছর ব্যাবহার করে থাকি কোন প্রকার আপডেট করা ছাড়াই। কিন্তু উইন্ডোজ প্রতিনিয়ত প্রতিটা প্রোগ্রামে ছোট ছোট আপডেট দিয়ে থাকে। কন্ট্রোল প্যানেলের Windows Update অপশনে আমরা এভেলএবল আপডেট গুলো চেক করতে পারবো।
এখন আমাদের উচিত হচ্ছে সব সময় উইন্ডোজকে আপডেটেড রাখা। কারন এর ফলে প্রোগ্রামগুলো কম্পিউটারের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের সাথে সামঞ্জস্য ঠিক রেখে কাজ করতে পারে, এতে করে হার্ডডিস্ক কিংবা র‍্যাম  সহ অন্যান্য পিসি পার্টস গুলো সাবলীল ভাবে কাজ করে। অপরদিকে এটা আপডেটেড না হলে ওই পিসির পার্টস গুলোর কাজ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফাইনালি হার্ডডিস্ক ফেইলার সহ আরও নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

অপ্রয়োজনীয় প্রোগাম সরিয়ে ফেলা

আপনার পিসিতে ইনস্টল করার অ্যাপ লিস্টে গেলেই আপনি দেখতে পারবেন হয়তো একেবারেই ব্যবহার হচ্ছে না এমন অনেক প্রোগ্রামই এতে ইনস্টল করা রয়েছে। এই অতিরিক্ত প্রোগামগুলো আপনার পিসিকে ভারি করে তুলছে, র‍্যামে প্রেশার ক্রিয়েট করছে এবং হার্ডডিস্কে অতিরিক্ত স্পেস নষ্ট করছে। অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো সরিয়ে ফেললে পিসির ইউজিং এক্সপেরিয়েন্স অনেকটা পাল্টে যাবে আর সাথে সাথে হার্ডডিস্কের সুরক্ষায় ও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ম্যানুয়ালি এটাকে পরিষ্কার করা

মাঝে মধ্যে আপনি আপনার পিসির সিপিইউ খুলে হার্ডডিস্কটা পরিষ্কার করতে পারেন। এটা খুবই ভালো একটা ব্যাপার। কারন দীর্ঘ সময় হার্ডডিস্ক পরিষ্কার না করা হলে সেখানে ধুলা জমে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ডাস্ট জমলে পাওয়ার সাপ্লাইয়ে ব্যাঘাত হয় যার এর ফলে হার্ডডিস্ক ফেইল করতে পারে। সে জন্য রুটিন করে মাঝে মধ্যে হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করাটা খুবই জরুরি।

কম্পিউটারের সিকিউরিটি নিশ্চিত করা

আপনার কম্পিউটারের যেন কোন প্রকারের ভাইরাস এ্যাটাক করতে না পারে সেজন্য আপনাকে সিকিউরিটির ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হবে। কম্পিউটারের সিকিউরিটির জন্য আপনি ভালো একটা এন্টি-ভাইরাস সফটওয়ার ব্যবহার করতে পারেন। ভাইরাসের এ্যাটাকের একটা মুল টার্গেট থাকে ক্লায়েন্ট পিসির ফাইল গুলো হাতিয়ে নেওয়া, এর ফলে দেখা যায় তাদের মুল লক্ষ্যই থাকে আপনার হার্ডডিস্কে। এজন্য সিকিউরিটি নিশ্চিত করে আপনি আপনার হার্ডডিস্ককে এ জাতীয় ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

স্টেবল পাওয়ারের জন্য ভালো স্ট্যাবিলাইজার ইউজ করা

আমাদের দেশের ইলেক্ট্রিসিটি সিস্টেম মোটেও স্ট্যাবল না। কখনও বেশি পাওয়ার আবার কখনও কম পাওয়ার এর ফলে আমাদের ইলেকট্রনিক সব পণ্যই ঝুকির মধ্যে থাকে। তাই একটা স্ট্যাবিলাইজার খুবই জরুরি। এরকম কম কিংব বেশী পাওয়ার সাপ্লাই এর কারনে হার্ডডিস্কের স্পিনিং ডিস্ক সহ অন্যান্য পার্টস মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। আপনার স্ট্যাবিলাইজার আপনাদের নির্দিষ্ট অনুপাতে পাওয়ার সাপ্লাই হওয়াটা নিশ্চিত করে দিবে। এতে করে পিসিতে সব সময় একই পরিমানে বিদ্যুৎ প্রবেশ করবে যা আপনার পিসির পার্টস গুলোকে ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত সাটডাউন রোধে UPS ব্যবহার করা

আপনার পিসি যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য UPS এর ব্যবহার করতে পারেন। এটা আপনাকে আপনার করা কাজ সেভ করার এবং পিসি বন্ধ করার একটা টাইম দিবে, যাতে করে আপনি কোন কাজ ও হারাবেন আর আপনার হার্ডডিস্ক ও ভালো থাকবে। সব সময় সব প্রোগামগুলো ক্লোজ করে, তারপরে সাটডাউন করবেন পিসি। কারন প্রোগামগুলো ওপেন থাকা মানে হার্ডড্রাইভ একটিভলি কাজ করছে, আর সেটা একটিভলি কাজ করার সময় বন্ধ করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

আন-অফিসিয়াল বা ক্র্যাক প্রোগ্রাম ইনস্টল থেকে বিরত থাকুন

চেষ্টা করবেন পিসিতে যেন কোন প্রকারের ক্র্যাক প্রোগ্রাম ইনস্টল না করা থাকে। কারন ক্র্যাক প্রোগ্রামের সাথে নানা ধরনের ম্যালওয়ার আসতে পারে পিসিতে। কিংবা দেখা গেলো নির্দিষ্ট কোন প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে যেয়ে আপনি একটা ভাইরাস ইনস্টল করে ফেললেন, যা আপনার হার্ডডিস্কের সমস্ত ফাইলকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। সুতরাং এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, তা না হলে যেকোন আনইথিক্যাল হ্যাকিং সহ স্টোরেজের ডাটা মিসিং হওয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।

এসব সতর্কতার পরও যদি আপনার হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ কিংবা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আপনার উচিত হবে হার্ডডিস্ক ডাটা রিকভারি কোন এক্সপার্টের কাছে যাওয়া। যেহেতু এতে আপনার প্রয়োজনীয় এবং সেনসিটিভ তথ্য থাকতে পারে, সেহেতু এটা সমাধানের জন্য আপনার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খরচ কমানোর কৌশল

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা টুইটারে থাকা ছবির বর্ণনা শুনতে পারবেন

টেক টাইমস বিডি এর ফেসবুক পেজের লিংক

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

আরও দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!